নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, হামলা, ভাঙচুর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলাটি করেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন রুকন।মামলায় এনসিপির ১০ জন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি আরও ৪০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ২৮ জুলাই বিকেলে হবিগঞ্জ পৌরসভার কোর্ট মসজিদ এলাকায় এনসিপি ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। ছাত্রদল নেতার অভিযোগ, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জুলাই আন্দোলনের শহীদ রিপন শীলের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও শোকসভায় অংশ নিতে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। এ সময় দেশি অস্ত্র, রড, রামদা, বল্লম ও ইট নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়।
হামলায় জেলা ছাত্রদলের নেতা মাহফুজ চৌধুরী ও মোজাক্কির হোসেন ইমনসহ কয়েকজন আহত হন। পরে তাঁদের হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এছাড়া সংঘর্ষের সময় বাদীসহ পাঁচজনের মুঠোফোন এবং ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে মামলায়।
মামলায় নাম উল্লেখ করা ১০ আসামি হলেন—এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, হবিগঞ্জ জেলা জাতীয় শক্তির আহ্বায়ক নুর আলম চৌধুরী, জেলা কমিটির সদস্য ফখরুল জাকির, আবদুল হাই কামাল, রুহাম গাজী, সদস্যসচিব মাহবুবুল বারী চৌধুরী মুবিন, কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক নাহিদ উদ্দিন তারেক, জেলা আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল এবং জেলা কমিটির সদস্য ওয়াদুদ মাহমুদ চৌধুরী।
একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এর আগে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করে এনসিপি। সেই মামলায় জেলা ছাত্রদলের সভাপতিসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়।
এনসিপির দাবি, ২৮ জুলাই তাঁদের পদযাত্রা ও পথসভা শেষে সার্কিট হাউসে ফেরার পথে ছাত্রদলের হামলায় সারজিস আলমসহ অন্তত ১৫ জন নেতা-কর্মী আহত হন। হামলায় তাঁদের এক নেতা চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন এবং কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও এনসিপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক জানান, দায়ের করা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।