সারাদেশ

সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের বেদখল জমি ৩০ দিনের মধ্যে উদ্ধারের নির্দেশ হাইকোর্টের

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ০২:৪২, ০৩ আগস্ট ২০২৬
photo

রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের বেদখল হয়ে যাওয়া জমি উদ্ধার করে ৩০ দিনের মধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল জারিসহ এই আদেশ দেন।

 

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. শফিকুল ইসলাম মিজান। শুনানি শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের বেদখল হয়ে থাকা জমি আগামী ৩০ দিনের মধ্যে উদ্ধার করে মূল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া আদেশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ৩ এপ্রিল দৈনিক ইত্তেফাকে ‘হাসপাতালের ৩০ একর জমিই হাতছাড়া!’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি নজরে আসার পর বিষয়ের সত্যতা ও বিস্তারিত জানতে 'পপার্স লিগ্যাল এডেড ফাউন্ডেশন'-এর পক্ষ থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়। চিঠির জবাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়: মোট বরাদ্দকৃত জমি: ৩২ একর।

 

বর্তমান ব্যবহৃত জমি: প্রায় ৮ একর (যেখানে সাততলা মূল হাসপাতাল ভবন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক কোয়ার্টার, মসজিদ ও পানির পাম্প রয়েছে)।

 

অন্যান্য সরকারি স্থাপনা: বাকি জমিতে বেশ কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা থাকলেও জমি বরাদ্দের প্রয়োজনীয় কোনো দাপ্তরিক নথি বা কাগজপত্র পাওয়া যায়নি।

 

অবৈধ দখলদারিত্ব: অবশিষ্ট খালি জমির এক বড় অংশ বহিরাগতদের দখলে চলে গেছে। সেখানে অবৈধভাবে কাঁচা-পাকা ঘরবাড়ি, দোকানপাট, কাঁচাবাজার, বরফকল, রিকশা ও অটোরিকশার গ্যারেজ গড়ে তোলা হয়েছে।

 

পরবর্তীতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত এই প্রতিবেদন যুক্ত করে 'পপার্স লিগ্যাল এডেড ফাউন্ডেশন'-এর পক্ষ থেকে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট আবেদনটি দায়ের করা হয়। শুনানি শেষে আদালত জমি উদ্ধারের জোরদার এই নির্দেশ প্রদান করেন।