সারাদেশ

কানাডায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ, 'হাতছাড়া' বহু বছরের সাফল্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ০৪:৩১, ০৩ আগস্ট ২০২৬
photo

কানাডায় উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে নতুন এইচআইভি (HIV) সংক্রমণের হার। দেশটির সরকারি সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে নতুন এইচআইভি সংক্রমণ প্রায় ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। দীর্ঘদিনের অর্জিত সাফল্য এখন বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে বলে সতর্ক করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

 

কানাডার পাবলিক হেলথ এজেন্সির মডেলিং তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে আনুমানিক ২ হাজার ৫১৭ জন নতুন করে এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছেন। ২০২২ সালে এই সংখ্যাটি ছিল ২ হাজার ৫০ জন।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কেবল বড় শহরগুলোতেই নয়, বরং ছোট ছোট আঞ্চলিক কমিউনিটিগুলোতেও এইচআইভি সংক্রমণ মারাত্মকভাবে ছড়াচ্ছে। এসব এলাকায় প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা, নিয়মিত স্ক্রিনিং ও পরীক্ষার সুযোগ সীমিত থাকায় সার্বিক পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করছে।

 

ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার 'বিসি সেন্টার ফর এক্সেলেন্স ইন এইচআইভি/এইডস'-এর নির্বাহী পরিচালক ড. জুলিও মন্টানার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "প্রতি সপ্তাহেই ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় নতুন নতুন সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হচ্ছে। সামনে কী ভয়াবহ দিন আসছে, তা নিয়ে আমি শঙ্কিত। বছরের পর বছর ধরে আমরা যে অগ্রগতি অর্জন করেছিলাম, তা যেন হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে।"

 

পরিস্থিতি বিবেচনায় চলতি বছরের মে মাসে কানাডার ম্যানিটোবা প্রদেশে এইচআইভিকে 'জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা' হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সেখানে সংক্রমণের হার জাতীয় গড়ের চেয়ে প্রায় সাড়ে তিন গুণ বেশি। এছাড়া দেশটির সাসকাচেওয়ান প্রদেশেও সংক্রমণের হার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা দেশের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

 

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ব্রিটিশ কলাম্বিয়া এইডস মহামারি নিয়ন্ত্রণে বড় সাফল্যের ঘোষণা দিয়েছিল। সে সময় নতুন এইডস রোগীর সংখ্যা ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায় এবং নতুন সংক্রমণ সর্বনিম্ন রেকর্ড স্পর্শ করে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ অর্জনে মারাত্মক ধস নেমেছে।

 

ড. জুলিও মন্টানারের নেতৃত্বে ২০০৬ সালে চালু হওয়া ‘ট্রিটমেন্ট অ্যাজ প্রিভেনশন’ (Treatment as Prevention) কৌশলটি বিশ্বজুড়ে এইচআইভি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রেখেছিল। ২০১৪ সালে জাতিসংঘ এ কৌশলকে স্বীকৃতি দেয় এবং ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী এইডস মহামারি অবসানের জন্য '৯৫-৯৫-৯৫' লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে: ৯৫% এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা। ৯৫% শনাক্ত রোগীকে নিয়মিত চিকিৎসার আওতায় আনা। ৯৫% চিকিৎসাধীন রোগীর শরীরে ভাইরাল লোড নিয়ন্ত্রণে রাখা।

 

তবে সাম্প্রতিক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডেটা ও জাতীয় মূল্যায়ন অনুযায়ী, কানাডা এখন পর্যন্ত এই তিনটি প্রধান লক্ষ্যের মধ্যে মাত্র একটি পূরণ করতে পেরেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অনতিবিলম্বে কার্যকর ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে দেশে এইচআইভি বিস্তার রোখা অসম্ভব হয়ে পড়বে এবং ২০৩০ সালের আন্তর্জাতিক লক্ষ্য অর্জন পুরোপুরি ব্যর্থ হবে।