সারাদেশ

১৭ বছরের সরকারের অব্যবস্থাপনা জ্বালানি সংকটের কারণ: বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ০৭:৩৮, ০৫ আগস্ট ২০২৬
photo

গত ১৭ বছরের সরকারের অব্যবস্থাপনার কারণেই জ্বালানি খাতে বর্তমান সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বুধবার দুপুরে সিলেট জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’–এর আলোচনা সভা এবং শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

 

বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের অগ্রযাত্রায় কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জ্বালানি। তিনি বলেন, অস্থিমজ্জার মধ্যে জবাবদিহিতা ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতাকে ধারণ করলে দেশকে পরিবর্তন করা কঠিন কিছু নয়। আমদানীকৃত গ্যাসের ওপর নির্ভরশীলতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "জ্বালানি চাহিদা মেটাতে, বিদ্যুৎ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এবং নতুন বিনিয়োগ আনতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। এই সময়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন কিছুটা ব্যাহত হলেও সবাইকে তা মানিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।"

 

উন্নয়নকে সম্মিলিত প্রয়াস আখ্যা দিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, তরুণদের শক্তি যেন সামাজিক শক্তি হিসেবে টিকে থাকে—তা নিশ্চিত করাই দেশকে এগিয়ে নেওয়ার অন্যতম শর্ত। আগামী দিনে নতুন বাংলাদেশ গড়তে সরকার এই তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগাবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত জুলাই যোদ্ধারা সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে অসম্মানিত হওয়ার অভিযোগ তোলেন। জুলাইযোদ্ধা লিটন আহমদ বলেন, ভাতা পাওয়ার জন্য কেউ আন্দোলনে নামেনি। গেজেটপ্রাপ্ত যোদ্ধারা বিভিন্ন গোষ্ঠীর কাছ থেকে হুমকি পাচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, শহীদ পরিবারের সদস্যরা স্বজনদের স্মৃতিচারণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। শহীদ পাভেলের বাবা উপস্থিত সকল শহীদ পরিবারের নিয়মিত খোঁজ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং গোলাপগঞ্জের ৭ শহীদের কবর জিয়ারত করতে বাণিজ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন।

 

রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ তাঁদের বক্তব্যে যেকোনো মূল্যে জুলাই যোদ্ধাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এবং একটি কল্যাণমুখী ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে সহযোগী হওয়ার অনুরোধ জানান।

 

সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় ১৪টি শহীদ পরিবারকে সংবর্ধনা ও আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম এবং নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদীসহ স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।