নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের আগামী দিনের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগ অনুপ্রবেশ করতে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। একই সঙ্গে সামনে দলটি আরও ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) নিজ ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন তিনি।
রাজধানীতে গ্যাসসংকট, বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিল, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে জামায়াত-এনসিপি জোটের অবস্থান কর্মসূচি থেকে 'সচিবালয় ঘেরাও' অভিযানের দিকে ইঙ্গিত করে এই রাজনৈতিক বিশ্লেষণ দেন রাশেদ খান। তিনি উল্লেখ করেন, ঘেরাও কর্মসূচি নিয়ে অগ্রসর হলে পুলিশ সময়মতো বাধা দেয়।
পোস্টে রাশেদ খান লেখেন, দেশের কোনো প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল—যাদের ভবিষ্যতে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়ার অভিপ্রায় থাকে—তারা কখনো সচিবালয়ের মতো সংবেদনশীল স্থানে ঘেরাও কর্মসূচি দেয় না। রাষ্ট্র ও দেশের স্বার্থেই সচিবালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্রকে নিরাপদ রাখা অত্যন্ত জরুরি।
জামায়াত-এনসিপি জোটের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, "আজ জামায়াত-এনসিপি যে হঠকারিতা করল, তা তাদের নিজেদের জন্যই নেতিবাচক ফল আনবে। এতে প্রশাসন ও সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে এই স্পষ্ট বার্তা গেল যে, জামায়াত-এনসিপিসহ এই ৯ দলীয় জোট মূলত একটি চরমপন্থী বা 'র্যাডিক্যাল ফোর্স'। এদের ধারণা তৈরি হলো যে, এরা ক্ষমতায় এলে সরকারি কর্মকর্তাদের একযোগে সচিবালয় থেকে বের করে দিতে পারে।"
পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি দাবি করেন, আজ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন শক্ত অবস্থান না নিলে সচিবালয়কে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করত জামায়াত-শিবির।
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে জামায়াত-শিবির সামনে আরও সহিংস কর্মসূচি দিতে পারে। এর পাশাপাশি তাদের ঘোষিত নানা কর্মসূচির মধ্যে নিষিদ্ধ বা কোণঠাসা অবস্থায় থাকা আওয়ামী লীগও ছদ্মবেশে প্রবেশ করার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশপন্থী সকল রাজনৈতিক শক্তিকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি সোচ্চার থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাশেদ খান।