নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও গত ৫ আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একটি প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেয় ভারত।
বিষয়টি নিয়ে ঢাকা কড়া প্রতিবাদ ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানানোর পর নীরবতা ভেঙে মুখ খুলেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ভারত সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, শেখ হাসিনার ওই সংবাদ সম্মেলনের সঙ্গে ভারতের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না এবং বাংলাদেশের বৈধ সরকারকে নিয়ে দেওয়া কোনো বক্তব্যের সমর্থনে নেই নয়াদিল্লি।
শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার দুই দিন পর আজ শুক্রবার (৮ আগস্ট) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ অবস্থান পরিষ্কার করেন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
সংবাদ সম্মেলনে রণধীর জয়সওয়ালকে ওই প্রেস ব্রিফিং প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “একটি বেসরকারি মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের আয়োজিত ওই প্রেস ব্রিফিংয়ে ভারত সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এতে সরকারের কোনো অবদান নেই। আমি বিষয়টি আবারও পুনর্ব্যক্ত করছি।”
বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও অন্তর্বর্তী সরকার সম্পর্কে শেখ হাসিনাসহ অন্যদের বক্তব্যের বিষয়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি কী—এমন প্রশ্নের জবাবে ভারতের এই কূটনীতিক জানান, ওই প্রেস ব্রিফিংয়ে উঠে আসা কোনো বক্তব্যকে দিল্লি সমর্থন করে না। তিনি বলেন, “ওই প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা কোনো কথাকেই ভারত সরকার সমর্থন করে না, বিশেষ করে বাংলাদেশের বৈধভাবে গঠিত সরকারের ব্যাপারে দেওয়া কোনো মন্তব্য তো নয়ই।”
এদিকে, প্রেস ব্রিফিংয়ে শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় দাবি করেন, ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিবেশী (বাংলাদেশ) এখন ‘পাকিস্তানে পরিণত হচ্ছে’ এবং দেশটিতে ‘সন্ত্রাসবাদ বিস্তার লাভ করছে’। সংবাদ সম্মেলনে অপর এক সাংবাদিক রণধীর জয়সওয়ালের কাছে জানতে চান, জয়ের এই মন্তব্যের প্রতি ভারতের সমর্থন আছে কি না অথবা এর জবাবে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে কি না।
প্রতিউত্তরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, “আমরা আমাদের একদম পাশের প্রতিবেশীর ওপর গভীর নজর রাখি, বিশেষ করে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর ওপর। আর এ ক্ষেত্রে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, আমরা সেগুলো গ্রহণ করি।”