চানখাঁরপুল হত্যাকাণ্ড মামলার রায় সোমবার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবেদন প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, সময়ঃ ০৮:২১


চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আগামীকাল সোমবার।


গত ২০ জানুয়ারি এই মামলার রায় ঘোষণা করার কথা ছিল। সে কারণে সকাল থেকে ট্রাইব্যুনাল ঘিরে ছিল বাড়তি নিরাপত্তা। রায় সরাসরি সম্প্রচার করতে বিচারকক্ষে কারিগরি প্রস্তুতি নিয়েছিল বাংলাদেশ টেলিভিশন।


মামলার গ্রেপ্তার আসামিদের আনা হয়েছিল ট্রাইব্যুনালে। রায় শুনতে এসেছিলেন ভুক্তোভোগী এবং ভুক্তোভোগী পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু ওই দিন ট্রাইব্যুনাল জানান, আমরা দুঃখিত। রায় প্রস্তুত হয়নি।

২৬ জানুয়ারি এ মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।


‘চানখাঁরপুল হত্যাকাণ্ড মামলা’ নামে পরিচিত এ মামলাটি পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের প্রথম মামলা হলেও রায় ঘোষণার দিক থেকে দ্বিতীয়। এর আগে গত বছর ১৭ নভেম্বর প্রথম একটি মামলার রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। ওই রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাবেক পুলিশপ্রধান (আইজিপি) চৌধুরীকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।


চানখাঁরপুল হত্যাকাণ্ড মামলাটি রায় ঘোষণার পর্যায়ে আসে গত বছর ২৪ ডিসেম্বর। সেদিন এ মামলায় প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হলে ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার জন্য গত ২০ জানুয়ারি তারিখ ধার্য করেন।
গত বছর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের দিন রাজধানীর চানখাঁরপুলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ৬ আন্দোলনকারী। তারা হলেন শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ মাহদি হাসান জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া।


এই ঘটনায় অভিযোগ দাখিলের পর ৬ মাস ১৩ দিনে তদন্ত শেষ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।


গত বছর ২০ এপ্রিল চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেয় সংস্থাটি। এটিই ছিল জুলাই-আগস্টের গণ-আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার প্রথম তদন্ত প্রতিবেদন। পরে ২৫ মে মামলার ‘আনুষ্ঠানিক অভিযোগ’ দাখিল করা হলে ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নেন। শুনানির পর গত বছর ১৪ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
এরপর ১১ আগস্ট চিফ প্রসিকিউটরের সূচনা বক্তব্যের মধ্যদিয়ে শুরু হয় মামলার বিচারকাজ। ওই দিন শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। ২৩ কার্যদিবসে ২৬ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। আসামিপক্ষে দুজন সাফাই সাক্ষী দিয়েছেন।


গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে এ মামলায় যুক্তিতর্ক শুরু করে প্রসিকিউশন। আসামিপক্ষ শুরু করে গত ২২ ডিসেম্বর থেকে। ২৪ ডিসেম্বর উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে রায় ঘোষণার জন্য গত ২০ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।


ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ এ মামলার মোট আসামি আটজন। তার মধ্যে চারজনই পলাতক। হাবিবুর রহমান ছাড়া পলাতক অন্য আসামিরা হলেন ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ্ আলম মো. আখতারুল ইসলাম ও রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল।
 

গ্রেপ্তার চার আসামি হলেন শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক মো. আরশাদ হোসেন, সাবেক কনস্টেবল মো. সুজন হোসেন, ইমাজ হোসেন ও মো. নাসিরুল ইসলাম।