আজ পবিত্র শবেবরাত, সৌভাগ্য ও মুক্তির রজনী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবেদন প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, সময়ঃ ১১:৫৮

আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) পবিত্র শবেবরাত। হিজরি সনের শাবান মাসের ১৪ তারিখের এই রাতটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে সৌভাগ্যের রাত বা মুক্তির রাত হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত। বিশ্বাস অনুযায়ী, এ রাতে মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের জন্য অশেষ রহমতের দরজা খুলে দেন, গুনাহ মাফ করেন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন।

 

‘শবেবরাত’ শব্দটি ফারসি ভাষা থেকে এসেছে। এখানে ‘শব’ অর্থ রাত এবং ‘বরাত’ অর্থ মুক্তি, শান্তি ও সৌভাগ্য। আরবি ভাষায় একে বলা হয় লাইলাতুল বরাত। হাদিসের বর্ণনায় এসেছে, এই রাতে মহান আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিজগতের প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন।

 

এই মহিমান্বিত রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নফল নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার এবং দোয়ায় মগ্ন থাকেন। তারা অতীত জীবনের পাপ ও অন্যায়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যৎ জীবনের কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করেন। একই সঙ্গে মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, সমাজ-রাষ্ট্র এবং সমগ্র বিশ্বের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য দোয়া করা হয়।

 

শবেবরাতের ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “মহান আল্লাহ মধ্য শাবানের রাতে অর্থাৎ শাবানের ১৪ তারিখ রাতে তাঁর সৃষ্টিজগতের দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন এবং শিরিককারী ও হিংসুক ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করেন।”
(ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৫৬৬৫)

 

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, শবেবরাতের আগের দিন বা পরের দিন রোজা রাখা সুন্নত। সে কারণে অনেক মুসলমান এই দুই দিন রোজা পালন করে থাকেন।

 

পবিত্র শবেবরাত মুসলমানদের জন্য পবিত্র রমজান মাসের আগমনী বার্তাও বহন করে। শাবান মাসের পরই শুরু হয় রমজান। তাই শবেবরাত থেকেই কার্যত রমজানের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়।

 

পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে আগামীকাল বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এদিন সব সরকারি অফিস, আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

 

শবেবরাতে করণীয় ও বর্জনীয়

 

ধর্মীয় আলেমরা জানান, এই রাতে ইবাদত-বন্দেগিতে মনোযোগী হওয়া, আত্মশুদ্ধি ও আত্মসমালোচনার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করা উচিত। পাশাপাশি সব ধরনের অপচয়, অনৈসলামিক রীতি, আতশবাজি, শব্দদূষণ ও অসচেতন আচরণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।