প্রতিবেদন প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬, সময়ঃ ০৪:০৮
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো পবিত্র ওলিপুণ্যভূমি সিলেট সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমান। আগামীকাল শনিবার (২ মে, ২০২৬) তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরকে কেন্দ্র করে আধ্যাত্মিক রাজধানী সিলেটে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও সাজ সাজ রব বিরাজ করছে। সফরের সূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী দিনভর বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল শনিবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানটি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। সফরের শুরুতেই সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন।
এরপর বেলা ১১টায় সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে বাস্তবায়িত জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর ১২টায় তিনি সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁওয়ে বাসিয়া নদী (বাসিয়া খাল) খননকাজের উদ্বোধন করবেন বলে নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিকেলের কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী ক্রীড়া ও দলীয় কর্মকাণ্ডে সময় দেবেন। বিকেল ৩টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’-এর উদ্বোধন করবেন তিনি। এরপর বিকেল ৫টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক দলীয় সভায় অংশগ্রহণ করবেন। সব কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যা ৭টায় প্রধানমন্ত্রীর বিমানে ঢাকা ফেরার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। সফর সফল করতে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি সভা ও প্রচার মিছিল সম্পন্ন করেছে দলটি।
অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকেও গ্রহণ করা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় অতিরিক্ত চেকপোস্ট ও পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায়ও আনা হয়েছে বিশেষ পরিবর্তন।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম জানান, আলোকসজ্জার চেয়ে শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা এবং সৌন্দর্যবর্ধনের ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তুতি শেষ করা হচ্ছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী জানান, প্রধানমন্ত্রীর কাছে সিলেটের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বিশেষ করে ঢাকা-সিলেট দ্রুত যাতায়াত ব্যবস্থা এবং শিল্পায়নের দাবিগুলো গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হবে। দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বঞ্চনা ঘুচাতে এই সফর সিলেটবাসীর জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।