প্রতিবেদন প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬, সময়ঃ ০৮:৩৪
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস গড়তে গিয়েও হোঁচট খেলেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে আসা থালাপতি বিজয়। আজ বৃহস্পতিবার রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তার শপথ নেওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত হয়ে গেছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সংশয় থাকায় রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকর তাকে এখনই সরকার গঠনের অনুমতি দেননি।
তামিলনাড়ুর সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ের দল 'টিভিকে' ১০৮টি আসনে জয়লাভ করে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাজিক ফিগার থেকে তারা এখনো কিছুটা দূরে। কংগ্রেস তাদের ৫টি আসন নিয়ে সমর্থনের আশ্বাস দিলেও, বিজয়কে তার লক্ষ্য পূরণে আরও অন্তত ৬টি আসনের সমর্থন জোগাড় করতে হবে।
উল্লেখ্য, থালাপতি বিজয় নিজে দুটি আসনে জয়ী হওয়ায় একটি আসন সংখ্যা হিসেবে কমে ১১২-তে দাঁড়িয়েছে। এই সমীকরণ মেলাতে আরও এক-দুই দিন সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বুধবার (৭ মে) রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছিলেন বিজয়। তবে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকর এখনই সেই দাবিতে সায় দেননি। তিনি ইতোমধ্যে বিধানসভা ভেঙে দিয়েছেন এবং কেরালার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন, যেখানে তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।
রাজ্যপাল মনে করছেন, সরকার গঠনের মতো পর্যাপ্ত জনবল বা বিধায়ক সংখ্যা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে টিভিকে-র আরও স্বচ্ছতা প্রয়োজন। এই পরিস্থিতিতে টিভিকে-র সাধারণ সম্পাদক আধভ অর্জুন আইনি দল নিয়ে পুনরায় রাজ্যপালের সাথে দেখা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বর্তমানে তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক ময়দানে জোট নিয়ে ব্যাপক জল্পনা চলছে। কংগ্রেস সরাসরি সমর্থন দিলেও ভিসিকে (VCK), সিপিআই ও সিপিআই(এম)-এর মতো দলগুলো এখনো তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। বাম দলগুলো জানিয়েছে, সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে অবস্থান পরিষ্কার করতে তাদের আরও সময় প্রয়োজন।
তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের প্রাপ্ত আসন সংখ্যার চিত্রটি নিম্নরূপ:
টিভিকে (বিজয়): ১০৮টি আসন, ডিএমকে (DMK): ৫৯টি আসন, এআইএডিএমকে (AIADMK): ৪৭টি আসন, কংগ্রেস: ৫টি আসন, পিএমকে: ৪টি আসন, সিপিআই ও সিপিআই(এম): ৪টি (২টি করে) আসন, অন্যান্য: আইইউএমএল (২টি), বিজেপি (১টি), ডিএমডিকে (১টি) এবং এএমএমকে (১টি)।
বিজয়কে এখন প্রমাণ করতে হবে যে কংগ্রেস ছাড়াও অন্যান্য নির্দলীয় বা ছোট দলগুলো তার শিবিরের অংশ হতে প্রস্তুত। এই আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের ওপরই নির্ভর করছে তামিলনাড়ুর পরবর্তী সরকারের ভবিষ্যৎ।