প্রতিবেদন প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, সময়ঃ ০৩:০৮
নিয়মিত ও বৈধ অভিবাসনের পথ প্রশস্ত করতে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সঙ্গে সহযোগিতা আরো জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। একই সঙ্গে তিনি অভিবাসীদের সুরক্ষা প্রদান এবং বৈশ্বিক শ্রমবাজারের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতার সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইওএমের অপারেশনস বিষয়ক উপ-মহাপরিচালক উগোচি ড্যানিয়েলসের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রতিমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বৈঠকে আইওএমের এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক ইওরি কাটো, বিশেষ উপদেষ্টা প্রিয়া মারওয়াহ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাৎকালে নিরাপদ, শৃঙ্খলিত ও নিয়মিত অভিবাসন উৎসাহিত করা এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন ও মানবিক অগ্রাধিকারগুলোতে অব্যাহত সহায়তার জন্য আইওএমের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বের প্রশংসা করেন প্রতিমন্ত্রী।
'গ্লোবাল কম্প্যাক্ট ফর সেফ, অর্ডারলি অ্যান্ড রেগুলার মাইগ্রেশন' (জিসিএম) চ্যাম্পিয়ন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে শামা ওবায়েদ আশা প্রকাশ করেন, 'জিসিএম ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান' লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে একটি সমন্বিত ও কর্মমুখী কাঠামো হিসেবে ভূমিকা রাখবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “অনিয়মিত অভিবাসন রোধ, নৈতিক উপায়ে কর্মী নিয়োগ এবং বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সম্ভাব্য অভিবাসীদের দক্ষতা উন্নত করা জরুরি। এজন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরো বাড়ানো প্রয়োজন।” বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, কেয়ারগিভিং ও কৃষি খাতে গন্তব্য দেশগুলোর সঙ্গে মেধা অংশীদারিত্ব সহজতর করা এবং মেধাভিত্তিক গতিশীলতা বাড়িয়ে দেশের দক্ষ কর্মীবাহিনীকে বৈশ্বিক চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করতে তিনি আইওএমের সহায়তা কামনা করেন।
নারী শ্রমিকের অধিকার ও কল্যাণ সুরক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহায়তা সেবা জোরদার করার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া, সংকটকবলিত দেশ থেকে আটকেপড়া বাংলাদেশিদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা, টেকসই পুনরেকত্রীকরণ, জলবায়ুজনিত অভিবাসন এবং মানবপাচার ও চোরাচালান রোধে আইওএমের ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানান।
মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) মানবিক সহায়তার প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাদের নিরাপদে, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারে অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে হবে।
বৈঠকে আইওএম উপ-মহাপরিচালক উগোচি ড্যানিয়েলস টেকসই অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের নানা উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে নিরাপদ অভিবাসনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন। উভয় পক্ষই নিরাপদ অভিবাসন এগিয়ে নেওয়া, অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষা এবং বিদ্যমান মানবিক অগ্রাধিকারগুলো বাস্তবায়নে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরো জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।