প্রতিবেদন প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, সময়ঃ ০৬:১৪
তথ্যচিত্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ উপস্থাপনায় ত্রুটি থাকার অভিযোগ এনে একটি অনুষ্ঠানে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার রাতে মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই অনভিপ্রেত ঘটনার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, প্রদর্শিত তথ্যচিত্র কিংবা যেকোনো সরকারি-বেসরকারি বিষয়ে অভিযোগ জানানোর পূর্ণ অধিকার দেশের সব নাগরিকের রয়েছে। তবে সেই প্রতিবাদ বা মতামত প্রকাশ পরিশীলিত ও নিয়মতান্ত্রিক হওয়া বাঞ্ছনীয়। তা না করে দেশের রাষ্ট্রপতি, বিদেশি কূটনীতিবিদ, গণমাধ্যমের প্রতিনিধি ও আমন্ত্রিত অতিথিদের সামনে যে গোলযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। এই ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না এবং এটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান বানচাল করার গভীর কোনো চক্রান্ত ছিল কি না, তাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার দাবি রাখে বলে মন্তব্যে জানানো হয়।
মন্ত্রণালয় বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানায়, অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধারা এ ধরনের গোলযোগের কারণে গভীরভাবে মানসিকভাবে আহত হয়েছেন, যা পরবর্তীতে তাঁদের বক্তব্যের মাধ্যমেও সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে। এ ধরনের অস্থিতিশীল প্রতিবাদ এড়িয়ে চলার যথেষ্ট সুযোগ থাকা সত্ত্বেও এমন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা অত্যন্ত দুঃখজনক।
এদিকে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে জড়িয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পত্রপত্রিকায় যে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তাকে অত্যন্ত সম্মানহানিকর ও শুভ গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য বিপর্যয়কর বলে চিহ্নিত করেছে মন্ত্রণালয়। সব ধরনের অপতথ্য ও বিভ্রান্তি ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানানোর পাশাপাশি সতর্ক করা হয়েছে যে, এসব হঠকারী কর্মকাণ্ড দেশকে পুনর্গঠনের পথ থেকে বিচ্যুত করে আবারও ফ্যাসিবাদের দিকে ঠেলে দেওয়ার শামিল। যেকোনো রাষ্ট্রবিরোধী ও গণতন্ত্রবিরোধী অপচেষ্টার বিরুদ্ধে পুরো জাতিকে সচেতন ও সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।