দেশে প্রথমবারের মতো শুরু হচ্ছে নৌযান শুমারি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবেদন প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, সময়ঃ ০৪:৩৫

দেশের সমুদ্রগামী, উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত নৌযানের সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও একটি সমন্বিত ডাটাবেস তৈরির লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো নৌযান শুমারি শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী ২০  থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে এই শুমারি পরিচালনা করা হবে।


বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মাধ্যমে নৌপরিবহন অধিদপ্তর এ শুমারি পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে।


র‌বিবার (৯ আগস্ট) দুপু‌রে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে নৌযান শুমারি ২০২৬-এর সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের জানানোর লক্ষ্যে একটি অবহিতকরণ সভায় এ তথ্য জানানো হয়।


সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন। এতে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে নৌযান শুমারি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মহিদুল ইসলাম।
 

সভায় জানানো হয়, দেশের সব সমুদ্রগামী, উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত নৌযানের পাশাপাশি ডাম্ব বার্জ এবং নিজস্ব ইঞ্জিন না থাকলেও অন্য কোনো যন্ত্রচালিত নৌযান দিয়ে টেনে বা ধাক্কা দিয়ে পরিচালিত হয় এমন নৌযানও শুমারির আওতায় আনা হবে। এ ছাড়া বিভিন্ন থিম পার্ক, ওয়াটার পার্ক ও রিসোর্টের কৃত্রিম লেক বা জলাশয়ে বিনোদনের জন্য ব্যবহৃত ইঞ্জিনচালিত ছোট-বড় নৌযান ও স্পিডবোটও শুমারিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।


তবে সামরিক বাহিনীর নিজস্ব তত্ত্বাবধানে পরিচালিত নৌযান ও জাহাজ এবং তাদের মালিকানাধীন যেসব নৌযান বর্তমানে অন্যান্য বাহিনী বা সংস্থার কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছে, সেগুলো এই শুমারির আওতাভুক্ত হবে না। একইভাবে ইঞ্জিনচালিত নয় এমন সাধারণ নৌকাও শুমারির বাইরে থাকবে।


কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নৌযান শুমারির মাধ্যমে দেশের নৌযান খাতের একটি নির্ভরযোগ্য ও পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেস তৈরি করা হবে। বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের কাছে অভ্যন্তরীণ নৌযানের নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান না থাকায় নৌপরিবহন খাতের পরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণে নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। শুমারির মাধ্যমে এসব তথ্যের ঘাটতি পূরণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


এ ডাটাবেসের মাধ্যমে নৌযানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নৌদুর্ঘটনা কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সহজ হবে। পাশাপাশি নৌপরিবহন খাতে নিয়োজিত নৌযান মালিক, শ্রমিক ও নাবিকদের নির্ভুল তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।


কোনো দুর্ঘটনার পর প্রকৃত ভুক্তভোগীদের দ্রুত শনাক্ত করে তাদের আর্থিক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতেও এ তথ্যভাণ্ডার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


এ ছাড়া নাবিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা, নৌপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, নীতিনির্ধারণ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়নেও শুমারির তথ্য ব্যবহার করা হবে। শুমারির মাধ্যমে প্রস্তুত করা ডাটাবেস বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য অফিশিয়াল তথ্যভাণ্ডার হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে।


সভায় অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে নৌযানশুমারি কার্যক্রম সুষ্ঠু, নির্ভুল ও নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করার জন্য আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় আরো জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে নৌযান মালিক, মাঝি-মাল্লা, নাবিক ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।    


সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, বিভিন্ন উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর কর্মকর্তা, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), নৌ পুলিশ, মৎস্য অধিদপ্তর ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা অংশ নেন।