নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা: ভোট দেওয়ার পর ঘোষণাপত্র ও স্বাক্ষর ছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পোস্টাল ব্যালট পাঠালে তা বাতিল করা হবে। এ ছাড়া আরও সাতটি কারণে পোস্টাল ব্যালট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির উপ-সচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়ে ইতোমধ্যে সব রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন।
চিঠিতে বলা হয়েছে, বৈধ ব্যালট পেপারগুলো জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রার্থীভিত্তিক এবং গণভোটের ক্ষেত্রে হ্যাঁ/না ভিত্তিতে আলাদা করে গণনা করতে হবে। তবে ইস্যুকৃত পোস্টাল ব্যালট নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে কোনো প্রার্থীর অনুকূলে গণনা করা হবে না—
১. খামের মধ্যে ঘোষণাপত্র না থাকলে;
২. ঘোষণাপত্রে ভোটারের স্বাক্ষর না থাকলে;
৩. একাধিক প্রতীকে টিক বা ক্রস চিহ্ন দেওয়া হলে;
৪. কোনো প্রতীকে টিক বা ক্রস চিহ্ন না থাকলে;
৫. এমনভাবে টিক বা ক্রস চিহ্ন দেওয়া হলে, যাতে ভোটটি কোন প্রার্থী বা প্রতীকের পক্ষে দেওয়া হয়েছে তা যুক্তিসঙ্গতভাবে নিশ্চিত করা না যায়;
৬. OCV (প্রবাসী) ভোটের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতীক ছাড়া অন্য কোনো প্রতীকে টিক বা ক্রস চিহ্ন দেওয়া হলে;
৭. ব্যালট পেপারে টিক বা ক্রস চিহ্ন ব্যতীত অন্য কোনো চিহ্ন প্রদান করা হলে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, গণনার সময় উপযুক্ত কারণে অবৈধ বা বাতিল ঘোষিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট পেপারগুলো একত্রে নির্ধারিত একটি খামে রেখে খামের ওপর সংখ্যা উল্লেখ করতে হবে। একই সঙ্গে মোট অবৈধ বা বাতিল ব্যালটের সংখ্যা ফলাফল বিবরণীর নির্ধারিত স্থানে লিপিবদ্ধ করে ফলাফল বিবরণী প্রস্তুত করতে হবে।
এদিকে কোনো আসনের পোস্টাল ব্যালট গণনা শুরুর আগে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে না পৌঁছালে সেই পোস্টাল ব্যালট গণনার আওতায় আসবে না। এছাড়া কোনো আদালতের আদেশে যদি কোনো নির্বাচনী আসনের প্রার্থীতালিকায় পরিবর্তন ঘটে, তাহলে ওই আসনের পোস্টাল ব্যালট গণনার প্রয়োজন হবে না। এখানে ‘যথাসময়’ বলতে ভোটগ্রহণের দিনসহ পূর্ববর্তী মোট পাঁচ দিনকে বোঝানো হয়েছে।
নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়, QR কোড ডুপ্লিকেট হওয়ার কারণে অথবা ভোটার কর্তৃক পোস্টাল ব্যালট পাওয়ার পর খামের QR কোড স্ক্যান না করার কারণে বাতিল হওয়া ব্যালটগুলো আলাদাভাবে সংরক্ষণ করতে হবে এবং তার হিসাব প্রকাশ করতে হবে।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দেশের ভেতরে ভোটের দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি চাকরিজীবী, কয়েদি ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং প্রবাসীদের মধ্যে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন।