সারাদেশ

নির্বাচনের আগে মোবাইল ব্যাংকিং ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং লেনদেনে কড়াকড়ি, নির্দেশনা আসছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ০২:৪৪, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
photo

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মোবাইল ব্যাংকিং ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবায় সাময়িক কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে। এর ফলে বিকাশ, নগদ, রকেটসহ সব মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) ব্যবহার করে একজন গ্রাহক দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা লেনদেন করতে পারবেন। প্রতিটি লেনদেনের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার টাকা।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই সীমাবদ্ধতা কার্যকর থাকবে। নির্বাচন কমিশনের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এই উদ্যোগ নিয়েছে, যা বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

 

এ সময় ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহার করে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি টাকা স্থানান্তর পুরোপুরি বন্ধ রাখার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ অ্যাপস ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে একজন ব্যক্তিগত গ্রাহক আরেকজন ব্যক্তিগত গ্রাহকের কাছে টাকা পাঠাতে পারবেন না।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান প্রথম আলোকে বলেন, “নির্বাচন কমিশনের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ লেনদেন সীমিত করার কাজ চলছে। চলতি সপ্তাহেই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।”

 

বর্তমানে এমএফএস গ্রাহকেরা দৈনিক সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা এবং মাসে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করতে পারেন। দিনে সর্বোচ্চ ৫০টি এবং মাসে ১০০টি লেনদেনের সুযোগ রয়েছে। তবে নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী নির্বাচনের সময় একজন গ্রাহক দিনে সর্বোচ্চ ১০ বার লেনদেন করতে পারবেন।

 

অন্যদিকে, ব্যাংকের অ্যাপ ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে বর্তমানে ব্যক্তি গ্রাহকেরা দিনে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা লেনদেন করতে পারেন। প্রতিটি লেনদেনের সীমা তিন লাখ টাকা। জনপ্রিয় এসব অ্যাপের মধ্যে রয়েছে—ব্র্যাক ব্যাংকের আস্থা, সিটি ব্যাংকের সিটিটাচ, ইসলামী ব্যাংকের সেলফিন, ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংকের নেক্সাস পে ও পূবালী ব্যাংকের পাই।

নির্বাচনের সময়ে অর্থের অপব্যবহার রোধে নগদ টাকা জমা ও উত্তোলনের ক্ষেত্রেও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। ১১ জানুয়ারি থেকে এক দিনে কোনো হিসাবে ১০ লাখ টাকা বা তদূর্ধ্ব নগদ জমা বা উত্তোলন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে বিএফআইইউর কাছে নগদ লেনদেন প্রতিবেদন (সিটিআর) জমা দিতে হচ্ছে।

 

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ে সিটিআর জমা দিতে ব্যর্থ হলে বা ভুল ও অসম্পূর্ণ তথ্য দিলে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অস্বাভাবিক লেনদেন হলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ব্যবস্থা নেবে, ব্যর্থ হলে ব্যাংককেই শাস্তির আওতায় আনা হবে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা আশা করছেন, এসব উদ্যোগের ফলে নির্বাচনের সময় টাকার অপব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।